বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে মস্কো এখন আতংঙ্কের নগরী

বর্নবাদীদের হাতে একের পর এক অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনায় পুরো মস্কো এখন বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে আতংকের শহরে পরিনত হয়েছে। সর্বশেষ সহিংস ঘটনায় মোজাম্বিকের এক ছাএের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে কেবল এ বছরের জানুয়ারি মাসেই মস্কোতে ১৬ জন বিদেশী শিক্ষার্থীর মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়েছে।…

আর এ সকল দুর্ভাগ্য ছাত্র-ছাত্রীরা এসেছিলেন চীন, ভিয়েতনাম, দক্ষিন কোরিয়া,মোজাম্বিক ও গাবোন থেকে মস্কোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য । এদের মধ্যে মেয়েও রয়েছে। হামলাকারীরা ছেলে-মেয়ে কাউকেই ছাড়েনি।
রাশিয়ার সবচেয়ে বেশী  বর্নবাদীদের বাস সেন্টপিটারবুর্গ শহরে। এটি রাশিয়ার ২য় বৃহত্তম শহর। আর এখানের পরিস্থিতি সর্বদাই খারাপ থাকে। কয়েকবছর আগে এখানেরই মেডিকেলের ৫ম বর্ষে অধ্যয়নরত ভারতীয় এক শিক্ষার্থীকে তার হোস্টেলের সামনেই বর্নবাদীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। অনেকেই ধারনা করছেন মস্কোতে ইদানিং যে বর্নবাদীদের সক্রিয় উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে তাদের  আগমন সেন্টপিটারবুর্গ শহর থেকেই। আর এ বিষয় নিয়ে স¤প্রতি মস্কোর গননৈএী  বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরের সাথে অএ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বিদেশী শিক্ষার্থীদের যে বিশেষ  সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে  ছাএ-ছাএীরা এ ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরব ভূমিকাকে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ কারা যায় যে, মস্কোর গনমৈএী বিশ্ববিদ্যালয়ে  ১৩৯ টি দেশের শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন। এত বেশি সংখ্যক দেশের ছাএ-ছাএীদের পড়াশুনা করার নজির পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪৪ জনের মত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সেদিন অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে  পুলিশি তৎপরতা বৃদ্বির  জোরধার দাবি জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ব্লাদিমির ফিলিপভ অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে ছাএ-ছাএীদের সমস্যাগুলো শুনেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন যে  ইতিমধ্যে তিনি বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্বির জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

রেক্টর বলেন, যারা এ ধরনের হত্যাকান্ডগুলো ঘটিয়ে  থাকে তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ পর্যন্ত। আর রাশিয়ার হত্যাকান্ডের আইন অনুযায়ী এদর বিচার তো অনেক পরের কথা এদের আটক পর্যন্ত কারা যাবে না। রেক্টরের এই কথার পরই মিশরের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দেশে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তাবে এই বয়েসের ছেলেদেরকে সংশোধনীর জন্য নির্দিষ্ট এক স্থানে পাঠানো হয়। এখানে তাদেরকে অনেক দিন রাখা হয় যতদিন না পর্যন্ত তারা এ কর্মকান্ডের জন্য অনুতপ্ত না হবে। কিন্তু রাশিয়াতে কেন এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় না ? এ বলে মিশরের এই  শিক্ষার্থী একে অত্যন্ত দুঃখ জনক বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের এক শিক্ষার্থী  নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানায়, অনেক স্বপ্ন আর বাসনা নিয়ে  উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য রাশিয়া এসেছি। আমার পিতামাতা আমার পথ চেয়ে আছেন কবে আমি একজন ডাক্তার হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসব; কিন্তু পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে তাতে আমি নিজেই সন্দিহান আমার পিতামাতার এ আশা পূর্ন হবে কিনা? কারন মেডিকালে পড়ার জন্য আমাকে প্রতিদিন মস্কোর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়।
একটি নিশ্চিত ভবিষ্যত আর উজ্জল ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ নিয়ে প্রতিবছর প্রচুর বিদেশী ছাএ-ছাএীরা রাশিয়াতে পড়তে আসে। আর স¤প্রতি  বর্নবাদীদের হাতে যে একের পর এক  অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তা শোনার পর হয়ত কোন পিতামাতাই তার প্রানপ্রিয় সন্তানকে রাশিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠাবেন না।  এখানের এখন প্রতিটি বিদেশী শিক্ষার্থীই ভাবছেন যে কবে শেষ হবে তার রাশিয়ার এই আতংকজনক  শিক্ষা জীবন।mosko_by_jamil_513379478

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s