রাশিয়ায় ভলগা নদীতে জাহাজ ডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৪: উদ্ধার কাজ চলছে

রাশিয়ার ভলগা নদীতে ডুবে যাওয়া ‘বুলগারিয়া’ জাহাজের উপরের অংশ টেনে তোলার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এর জন্য প্রথমে ১৬ জুলাইকে নির্বাচন করা হলেও পরবর্তিতে তারিখ পরিবর্তন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৮ জুলাই ‘বুলগারিয়া’ জাহাজকে টেনে তোলা সম্ভব হবে। ডুবে যাওয়া জাহাজটির বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ধারকারী দুইটি জাহাজ বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছে। সর্বেশেষ তথ্য অনুযায়ি ঐ দুর্ঘটনায় ১১৪ জন নিহত ও ১৫ জন নিঁখোজ রয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে শুধুমাত্র ৭৯ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশ মোতাবেক নিঃশব্দে তদন্তের কাজ এগিয়ে চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই রাশিয়ার তাতারস্থান প্রদেশের ভলগা নদীতে ‘বুলগারিয়া’ জাহাজটি ডুবে যায়। জানা যায়, ঐ সময় আবহাওয়া নৌযান চলাচলের অনুকুলে ছিল না। উপকূল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অদুরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ১৫০ জন হলেও সেই দিন মোট ২০৮ জন যাত্রী নিয়ে ‘বুলগারিয়া’ কাজান বন্দরের অভিমুখে রওনা হয়।
‘বুলগারিয়া’ জাহাজ ডুবির এই ট্রাজেডির স্বীকার হয়েছে অনেক শিশু। সরকারি তথ্য অনুযায়ি, জাহাজে মোট ৬০ জন শিশু ছিল এবং এদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার মূহূর্তে এই শিশুরা নিচ তলার একটি সঙ্গীত কক্ষে ছিল যেখানে তাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান চলছিল।
বেঁচে যাওয়া ১০ বছরের বালক দিনার জানায়, ‘জাহাজ উল্টে যাওয়ার সময় আমরা সবাই একদিকে চলে যাই এবং বৃহৎ আকারের পিয়ানো আমাদের শরীরে ওপর পরে। সবাই চিত্কার করতে থাকে। ঐ সময় এক বয়স্ক ব্যক্তি জানালার কাঁচ ভেঙ্গে শিশুদের বলেন, ‘এখান থেকে লাফ দাও, জাহাজ ডুবে যাচ্ছে’। দিনার অবশ্য ভাল সাতার জানার কারণেই ঐ দিন বেঁচে গিয়েছিল।
এদিকে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন বৃহস্পতিবার কাজান সফরে যান এবং দুর্ঘটনার পরবর্তি কাজের খোঁজখবর নেন। স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন বলেন, সঠিক তদন্তের ফলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি সত্যিই ভয়ানক যে, শুধুমাত্র অসতর্কতা, নিজেদের ক্ষুধা মেটানো এবং যান্ত্রিক নিরাপত্তার বিধি নিষেধ অমান্য করার কারণে আমাদেরকে এতগুলো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা মেনে নিতে হচ্ছে। কিভাবে এই কোম্পানী পর্যটন কাজের লাইসেন্স পেয়েছে? জাহাজ ব্যবহারের অনুমতি না পেয়েই কিভাবে তা কাজ করেছে? কে অনুমতি দিয়েছে? বন্দর থেকে জাহাজ ছাড়ারকে অনুমতি দিয়েছে? কোথায় এইসব দলিলপত্র’?
অন্যদিকে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তদন্ত কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন। মেদভেদেভ বলেন, ‘এই দুর্ঘটনার সাথে সত্যিকার অর্থে দোষী ব্যক্তিদের কঠোর আইনের মুখোমুখি হতে হবে। শুধুমাত্র যারা কাগজে সই করেছেন তারাই নয় বরং প্রতিটি ব্যক্তি যারা এই কাজে অংশ নিয়েছে। আগামী ভবিষ্যতের জন্য যেন সবাই সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে তারই ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, ‘বুলগারিয়া’ জাহাজের মত এই ধরনের জাহাজকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়া শুধুমাত্র শৃঙ্খলা ভঙ্গ করাই নয় বরং তা একধরনের অপরাধ’।
এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি ও রাশিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশটির প্রতিটি বন্দরে অভিযান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে তা হল-জাহাজ ভাড়া নেওয়ার লাইসেন্স এবং পর্যটন সেবা প্রদানের অনুমতি রয়েছে কিনা। বর্তমানে রাশিয়ায় নদীপথে ভ্রমণ পরিবহণে নিয়োজিত রয়েছে এমন জাহাজের সংখ্যা হচ্ছে ১৫০টি। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই সবগুলো জাহাজ পরীক্ষা করা হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s