ব্রিইভিক মানসিক বিকারগ্রস্ত নাকি নিও-নাজি সংগঠক?

ব্রেইভিক বড় হয়েছেন অসলোতেই। পড়াশুনা অসলো স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে।
নাম অ্যান্ডারস বেরিং ব্রিইভিক। মাথায় সোনালি চুল। চোখের রং নীল। বয়স ৩২।শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে কয়েকটি সরকারি ভবনে বোমা হামলা এবং উটোইয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে অতর্কিত হামলার মূল হোতা হচ্ছেন এই অ্যান্ডারস ব্রেইভিক।অ্যান্ডারস নিজেই এ ঘটনার দায়ভার স্বীকার করেছেন।পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্ডারস বলেন, ‘আমার হামলাগুলো ছিল ভয়ংকর কিন্তু দরকারী’ ।তিনি হামলার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ননা দিতে রাজি হয়েছেন।বিভিন্ন উত্স থেকে পাওয়া সংবাদে ২ জন হামলাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।তবে পুলিশ এখনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।সরকারি ভবনে বোমা বিম্ফোরণ ও উটেয়া দ্বীপে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাড়িঁয়েছে।এখনও নিঁখোজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন । ১০০ এরও বেশী আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
“যেন আচমকা আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসা কোনও যমদূত”।এ ভাবেই ৩২ বছরের ওই যুবককে ব্যাখা করেছেন রক্তাক্ত নরওয়ের এক পুলিশ কর্তা।

শুক্রবার পর্যন্ত এই অ্যান্ডারস ব্রেইভিকের সম্পর্কে পৃথিবীর কেউই কিছু জানত না।ব্রেইভিক স্ক্যান্ডনেভিয়ার একটি ইন্টারনেট ফোরামে কঠোর জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করতেন।সুইডিশ সাংবাদিকদের তথ্যমতে, ঐ সাইটের ২২ হাজার ইউজারদের মধ্যে অ্যান্ডারস হচ্ছেন সক্রিয়দের ১ জন।তাছাড়া ৩২ বছর বয়সী এই যুবকের ফেইসবুক ও টুইটারেও নিজের এ্যাকাউন্ট রয়েছে।ব্রেইভিকের নামে যে টুইটার অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছ তাতে একটি মাত্র পোস্ট রয়েছে। পোস্টটিতে ইংরেজ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের একটি উদ্ধৃতি রয়েছে। উদ্ধৃতিটি হলো- `স্রেফ আগ্রহ আছে এমন লক্ষ লোকের ক্ষমতার সমান একজন বিশ্বাসী ব্যক্তির ক্ষমতা’।
এদিকে নরওয়ের গনমাধ্যমগুলো জানিয়েছে,ব্রেইভিক এই আক্রমনের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইংরেজিতে লেখা ১৫শ পৃষ্ঠার একটি দলিল অনলাইনে প্রকাশ করেন।যার শিরোনাম ছিল-‘২০৮৩ সালের স্বাধীন ইউরোপের ঘোষণা’।ঐ দলিলে বোমা তৈরীর বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বর্ননা দেয়া হয়েছে।
ব্রেইভিক যে শুক্রবারের বোমা হামলার সাথে সরাসরি জড়িত তা জানার পরই সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আসতে থাকে।নরওয়ের সংবাদ সংস্থা এনটিবি জানিয়েছে,ওই যুবক আর্মিতে প্রশিক্ষন নিয়েছেন এবং বন্দুক-ক্লাবের সদস্য ছিলেন।বিগত কয়েকটি মাস ব্রেইভিক তার নিজস্ব কোম্পানিতে সময় দিয়েছেন।তার কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে শাকসবজি, তরমুজ, গাজর, মূলা এবং আলু চাষ করে।এর জন্য তাকে রাসায়নিক সার সংগ্রহ করতে হয়। সেই সার বোমা বানানোর কাজে ব্যবহার করে থাকতেই পারেন।
তাছাড়া ব্রেইভিকের সম্পর্কে আরও সঠিক তথ্য পেতে যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তা হল ব্রেইভিকের মানসিক পরিস্থিত।তবে বর্তমানে যে তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে তাতে ব্রেইভিককে মানসিক রোগী হিসাবেই ধরা যেতে পারে।
অন্যদিকে ব্রেইভিকের কঠোর জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচিয় পাওয়া যায় ইউটিউভ থেকে।যেখানে তার এ্যাকাউন্ট থেকে ১২ মিনিটির একটি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন।ঐ ক্লিপে ইউরোপে অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনার আহবান জানানো হয়।
এদিকে ইউটিউভের ভিডিওতে ব্রেইভিক বলেছেন,রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে মার্কসের পন্থা অবলম্বন করা উচিত।শুক্রবারের পৃথক দুটি হামলাই কিন্তু ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে উদ্দেশ্য করে আঘাত হানা হয়েছিল।
নরওয়েতে বেশ কয়েকটি ‘নিও নাজি’ গোষ্ঠী সক্রিয়।তবে বর্তমানে সবকটি গোষ্ঠী ছোটোখাট এবং ছন্নছাড়া. কিন্তু এ রকম কোনও পরিচিত ডানপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য নন ব্রিইভিক। তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন অপরাধেরও রেকর্ড নেই। সেই কারণে কোনও পুলিশি নজরদারিও ছিল না তাঁর ওপর।
উল্লেখ,নরওয়ের আইনে ব্রেইভিককে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার দায়ে দোষী স্বাভ্যস্ত করা হয়েছে এবং এই জন্য তার সর্বোচ্চ ২১ বছর সাঁজা হতে পারে।বিবিসি,ভিওআর,এনটিবি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s