মস্কোর পাতাল রেল: যেন শিল্পকর্মের স্মৃতিসৌধ

স্টেশনের স্থাপত্য ও ভিতরের কাজে অংশ নিয়েছিলেন সেই সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে নামকরা স্থপতি শিল্পীরা।
প্রতি ১-২ মিনিট অন্তর অন্তর একের পর এক পাতাল রেল স্টেশনে এসে থামছে।দৈনিক যাএী পরিবহনের সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে এই পাতাল রেল বর্তমানে টোকিওকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থান দখল করেছে।এর প্রতিটি স্টেশনের স্থাপনা শৈলী ও কারুকার্য দেখে সত্যিই আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে।পর্যটক বা নগরীর নতুন অতিথিদের কাছে এ যেন মাটির নীচে সত্যিই এক জাদুঘর বলে মনে হবে।কথাগুলো বলছিলাম মস্কো নগরীর পাতাল রেল সম্পর্কে।
দেখতে দেখতে গত ১৫ মে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বলে বাস্তবেই যাকে মানা হয় সেই মস্কো নগরীর পাতাল রেলের ৭৬ বছর পূর্ণ হয়েছে।
মেট্রো রেলের ম্যাপ। মেট্রো রেলের ব্যবস্থায় এর রয়েছে ১২টি লাইন এবং যার মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২৯৮ কিলোমিটারেরও বেশী। গোটা মস্কো নগরীতে পাতাল রেলের স্টেশনের সংখ্যা হচ্ছে ১৮২ টি

রাশিয়ার রাজধানীর সাধারণ যাএীদের জন্য প্রধান ও সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থা হল পাতাল রেল। মেট্রো রেলের ব্যবস্থায় এর রয়েছে ১২টি লাইন এবং যার মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২৯৮ কিলোমিটারেরও বেশী। গোটা মস্কো নগরীতে পাতাল রেলের স্টেশনের সংখ্যা হচ্ছে ১৮২ টি ।মস্কো মেট্রোর ওয়েবসাইট ‘মস মেট্রো’ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৯ মিলিয়ন যাএী মেট্রো সার্ভিস ব্যাবহার করেন।
মস্কোতে পাতাল রেলের প্রথম রেল লাইন চালু হয়েছিল সেই ১৯৩৫ সালের ১৫ মে।তখন ‘সকোলনিকি’ থেকে ‘পার্ক কুলতুরি’ পর্যন্ত মাএ ১টি লাইনে পাতাল রেল সার্ভিস নিয়োমিতভাবে চালাচল করে। স্টেশনগুলির ভিতরের কারুকার্য ও আলোর প্রাচূর্য্যতা যাত্রীদের মুগ্ধ করে তোলে। শুধু দেওয়ালের গায়ে লাগানোর জন্যই ২২ হাজার স্কোয়ার মিটার মর্মরের টালি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রায় ২০ রকমের পাথর যা আনা হয়েছিল ককেশাস,আলতাই,উরাল ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে । তার সঙ্গে ছিল গ্র্যানাইট, রডোনিট, গোমেদ ও অন্যান্য পাথরও।

বিশ্বের অন্য কোন মেট্রোতেই নানা শিল্পের সমন্বয়ের এই ধরনের কাজ ব্যবহার করা হয় নি।সর্বপ্রথম মস্কো মেট্রোতেই স্থাপত্য,দেয়াল অঙ্কন বা মোজাইকের কাজ সংযোজিত হয়।
শুরুর দিকের স্টেশনগুলির আয়তনও অনেক বৃহৎ ছিল।তখন পশ্চিমা অনেক দেশের পাতাল রেল মস্কো পাতাল রেলের মত এমন বড় ছিল না। রেলের সুড়ঙ্গের ব্যাস ছিল প্রায় পাঁচ -ছয় মিটার পর্যন্ত।ঐ সময় লন্ডনের পাতাল রেলের ব্যাস ৩. ৭ মিটার আর বার্লিনের ৩. ৫ মিটার ছিল। প্ল্যাটফর্মের প্রস্থ ৪ মিটার থেকে বাড়িয়ে ২২ মিটার করা হয়েছিল। যদি ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ স্টেশন ছিল ১১০ মিটারের, তবে মস্কোর মেট্রো স্টেশন তৈরী ছিল প্রায় ২০০ মিটারেরও বেশী। আসলে মস্কো নগরীর মাটির নীচে এমনই ভিন্ন এক শহর তৈরী হয়েছে যা শিল্পসম্মত,মূল্যবান ও অর্থবহ।
এসব স্টেশনের স্থাপত্য ও ভিতরের কাজে অংশ নিয়েছিলেন সেই সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে নামকরা স্থপতি শিল্পীরা। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন শ্যুসেভ, দুশকিন, কোরিন, লানসেরে ও দেনেইকাপ্রমুখ।‘ক্রাসনিয়ে ভারোতা’ ও ‘ক্রপোতকিনস্কায়া’ স্টেশন দুইটি ও ১৯৩৮ সালে তৈরী ‘মায়াকোভস্কায়া’ স্টেশন যা আজ স্থাপত্য ও নির্মাণের অমূল্য উদাহরণ হয়ে রাশিয়ার সংরক্ষিত সম্পদে পরিণত হয়েছে।
মেট্রো স্টেশনের নির্মাণের কাজ মহান পিতৃভূমির যুদ্ধের সময়েও থেমে থাকে নি।
মস্কো বেড়াতে আসা বিদেশীদের কাছে ভ্রমনের জন্য প্রথম পচ্ছন্দ হচ্ছে মেট্রো স্টেশন। অতিথিরা এই সব মেট্রো স্টেশনের শিল্পকলা দেখে অভিভূত হন।তাঁরা মস্কো মেট্রোর মোজাইকের কাজ, মূর্তি ও খোদাই করা স্থাপত্য নিদর্শনের ছবি ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে রাখেন। মস্কোর পাতাল রেল স্টেশনকে তাই বিরল স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের স্মৃতিসৌধ বললেও হয়ত ভুল হবে না।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s