দেশীয় গণমাধ্যমে মোবাইল প্রযুক্তি

বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে মোবাইল প্রযুক্তির উৎকর্ষ ঘটছে প্রতিদিন। মোবাইল অপারেটররা ২০১৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে তৃতীয় প্রজন্মের দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ চালু করে। এতে করে প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক বড় অগ্রগতি হয়েছে। স্বল্প মূল্যের দেশীয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন আজ সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে এসেছে।
মুঠোফোন কথা বলা ছাড়াও এখন বহুমুখী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুঠোফোনের সাহায্যে আজ গণমাধ্যমের সংবাদ জানার কাজ আগের চেয়ে অনেক সহজতর হয়েছে। খবর জানতে এখন আর পত্রিকার ওয়েবসাইটেও যেতে হয় না। হাতের কাছে থাকা মুঠোফোন থেকে যেকোনো একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লগইন করেই জানতে পারেন আপনার শহর থেকে শুরু করে বিশ্বের কোথায় কী ঘটছে, এসব খবরাখবর। সংবাদ আজ নিজেই আসছে পাঠকের কাছে; তাঁর পছন্দের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছে যেতে বিশ্বে নতুনধারার গণমাধ্যম (নিউ মিডিয়া) ব্যবহার করছে আধুনিক প্রযুক্তি। মূলত দ্রুত সংবাদ পাওয়া এবং পাঠকের পাঠানো তথ্যের (ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট) ভিত্তিতে সংবাদ তৈরির সুযোগ থাকায় নিউ মিডিয়া খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
নতুনধারার গণমাধ্যমের একটি অন্যতম দিক হচ্ছে, পাঠক যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই ব্যবহার করুক না কেন, গণমাধ্যমকে সেই প্ল্যাটফর্মে নিজের সক্রিয় উপস্থিতি থাকতে হবে। তা না হলে পাঠক কোনো একসময় ওই গণমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তা ছাড়া আমাদের দেশীয় গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকায় সংবাদে পক্ষপাতিত্ব দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংবাদ পাওয়ার উৎস হিসেবে তাঁরা এখন দেশীয় গণমাধ্যমের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রতি বেশি নির্ভর করছেন।
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সবার কাছে ফেসবুক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। দেশে এর ব্যবহারকারী বাড়ছে দ্রুতগতিতে। ব্যবহারকারীর অধিকাংশই বয়সে তরুণ। ১ ডিসেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এখন ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটি আট লাখে পৌঁছেছে। প্রতি আট সেকেন্ডে ফেসবুকে একটি নতুন প্রোফাইল খোলা হচ্ছে। একটি প্ল্যাটফর্মে এত বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী থাকায় বাংলাদেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলোকে ফেসবুকেই বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে। ফেসবুক ছাড়াও খুদে ব্লগ লেখার জনপ্রিয় সাইট টুইটার, ভিডিও আদান-প্রদান করার সাইট ইউটিউব কিংবা ডেইলি মোশন ব্যবহার করছে কিছু গণমাধ্যম। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমকে নতুন নতুন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে প্রথম আলোর কথা।
বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত অনলাইন বাংলা পত্রিকা প্রথম আলো সম্প্রতি নতুন আরও একটি মোবাইল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২ ডিসেম্বর পত্রিকাটির ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টে ‘লাইন’ অ্যাপস (ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন) ব্যবহার করে প্রথম আলোর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পাঠককে আহ্বান জানানো হয়। প্রথম আলো ছাড়া এর আগে বাংলাদেশের কোনো প্রিন্ট কিংবা অনলাইন পত্রিকাকে মোবাইলে বিনা মূল্যে কথা বলা ও বার্তা পাঠানোর এ ধরনের কোনো অ্যাপস ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

unnamed
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশের গণমাধ্যম লাইন, ভাইবার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিনা মূল্যে বার্তা পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে অনেক আগে থেকেই ব্যবহার করছে। গত ১৬ অক্টোবর বিবিসি তাদের বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ইবোলা ভাইরাস-বিষয়ক তথ্যসেবা চালু করে। ইবোলা প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে বিবিসি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অডিও, খুদে বার্তা ও ছবি হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত প্রচার করছে। আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো জাতীয় পর্যায়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের সামাজিক সেবা দিতে পারে। মূলত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বাড়ায় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের দিকে ঝুঁকতে পারে দেশীয় গণমাধ্যম।
উল্লেখ্য, ‘লাইন’ হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনা মূল্যে বার্তা এবং কথা বলা সেবাদাতা অ্যাপ্লিকেশন। লাইন বিভিন্ন ফিচারের জন্য অনেক জনপ্রিয়। জাপানি এই অ্যাপসটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ফোন এবং ব্ল্যাকবেরিসহ প্রায় সব কটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহার করা যায়। মোবাইল ছাড়া পিসি ও ম্যাক কম্পিউটার থেকেও অ্যাপসটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ অ্যাপসের মাধ্যমে বিনা মূল্যে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি অডিও-ভিডিও কল, ভিডিও ও অডিও ফাইল বিনিময় করা যায়। উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় লাইন। আর চলতি বছরের অক্টোবরে সারা বিশ্বে লাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৬ কোটিতে পৌঁছায় বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ১৪টি ভাষায় লাইন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
মোবাইল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের নতুনধারার গণমাধ্যম আরও বিকশিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন। তরুণ প্রজন্মের পাঠকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিচ্ছে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকস ও অনলাইন গণমাধ্যম। সংবাদ পরিবেশন করা ছাড়াও এতে করে নানা রকম মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ও ইন্টার-অ্যাকটিভ সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলো থেকে পড়তে চাইলে ক্লিক করুন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s